আজ সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং | ২ পৌষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

যেকোন সময় ছাত্রলীগের কমিটি, বিতর্কিতদের ছড়াছড়ি!

মাতৃভূমি ডেস্কঃ
প্রকাশিতঃ ৩০ এপ্রিল ২০১৯ সময়ঃ রাত ৯ঃ০৫
যেকোন সময় ছাত্রলীগের কমিটি, বিতর্কিতদের ছড়াছড়ি!

 

মাতৃভূমি ডেস্কঃ

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯ তম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্রলীগের সভাপতি মনোনীত হন রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। শোভন -রাব্বানী কমিটি ঘোষণা হওয়ার পরে এই শীর্ষ দুই নেতা এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রায় এক বছরেরও শোভন-রাব্বানী ছাত্রলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি। সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে কয়েকদফা ঘোষণা দিয়েও ব্যর্থ হয়েছে কমিটি করতে। অবশ্য ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব বলছে কমিটির তালিকা প্রায় চুড়ান্ত, যেকোন সময় ঘোষণা হবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি। 

এদিকে জানা গেছে আসছে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বেশ কয়েকজন বিতর্কিত ছাত্রনেতা। এর মধ্যে তানজিল ভুইয়া তানভীর, সৃজন ভূইয়া, সোহানী হাসান তিথি, নুরুল আজিম রনির, শাহরিয়ার সিদ্দিক শিশিম, হাবিবুল্লাহ বিপ্লব, বরকত হোসেন হালদার, মাজহারুল ইসলাম শামীম,  নাম উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে সম্মেলনের আগেই এদের তিন জনের বয়স ২৯ পার হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু এরা ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছে এবং আসছে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে প্রথম সারির পদ প্রত্যাশিদের তালিকায় এদের নামও রয়েছে। 

জানা গেছে, তানজিল ভুইয়া তানভীর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর অনুসারী এবং খুবই ঘনিষ্ঠ। ২৯ তম সম্মেলনের আগেই তার নির্ধারিত বয়স শেষ হয়ে যায়। তাছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক মেয়েকে লাঞ্চিত করার অপরাধে তাকে তার ডিমার্টমেন্ট থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছিলো। গোলাম রাব্বানীর সাথে তাকে সার্বক্ষণিক দেখা যায়। সে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসছে।

সৃজন ভূইয়া যার সার্টিফিকেটে নাম বিএম শাহরিয়ার হাসান, তিনি অগ্রণী ব্যাংকে কর্মরত। সৃজন ভূইয়া ছাত্রলীগ সভাপতি শোভনের অনুসারী। জানা যায়, সৃজন ভূইয়া ছাত্রলীগ সভাপতি শোভনের বন্ধু হওয়ায় সে ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসছে। 

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক কৃষি শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক বরকত হোসেন হাওলাদার। তার গ্রামের বাড়ি  বরিশালে৷ তিনি দলীয় কোন্দলের জেরে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের গণরুমে কিছু শিক্ষার্থীকে আগ্নেয়াস্ত্র  দেখিয়ে ভয় দেখানোর দায়ে ২০১১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব হারান। পরবর্তীতে একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জার্নালিজমে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন। ছাত্রলীগের একটি বিশেষ মাধ্যমে জানা গেছে তিনিও এবার পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাচ্ছে। 

মাজারুল ইসলাম শামীম ছাত্রলীগের সোহাগ-জাকির কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক৷ তার বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ৫ ই জানুয়ারি নির্বাচনের সময় ছাত্রদলকে সুসংগঠিত করার অভিযোগ রয়েছে। শামীমের বাবা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে৷ তার বাবা বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনও করেন৷ 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের সভাপতি শাহরিয়ার সিদ্দিক শিশিমের বিরুদ্ধে চাঁনখারপুলে নিয়মিত চাঁদাবাজি, দোকানে ফাও খাওয়ার অভিযোগ আছে। 

নুরুল আজিম রনি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক। চাঁদার জন্য তিনি এক কোচিং সেন্টারের মালিককে হেনস্তা করেন। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তিনিও বিবাহিত। তিনি যে মেয়েকে বিবাহ করেন সে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগের আত্মীয়। তিন তিনবার সেই মেয়ের গর্ভপাত করানোর পর তাকে আর ঘরে তোলেননি রনি। এ নিয়ে এলাকায় সালিশ, বিচারও হয়েছে বলে জানা যায়।  ছাত্রলীগের একটি বিশেষ সূত্র বলছে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রনি গুরুত্বপূর্ণ পদে আসছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তৌফিকুর রহমান সাগর। তিনিও পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। সাগরের বাবা অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দীন। তিনি কিশোরগঞ্জ -২ পাকুন্দিয়া-কটিয়াদীর সংসদ সদস্য। ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তার নামে। জানা গেছে সাগর গোলাম রাব্বানীর অনুসারী। তার ব্যক্তিগত গাড়িতে গোলাম রাব্বানীকে বিভিন্ন সময় দেখা যায়। 

পদ পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন সামিহা সরকার। তার বাড়ি গাজিপুরের কালিয়াকৈর। সামিহা সরকারের নামেও রয়েছে বিতর্ক। তার বাবা সবুর সরকার কালিয়াকৈর বিএনপির সভাপতি এবং বিএনপি থেকে মনোনীত ওয়ার্ড কাউন্সিলর। তাছাড়া সামিয়া সরকার বিবাহিত বলেও প্রমাণ রয়েছে। সামিয়ার ২০১২ সালে বিয়ে হয় এবং ২০১৬ সালে সামিয়া তার স্বামী রাজীবুল ইসলাম রাজীবকে তালাক দেয়। 

ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ন আহবায়ক মুনমুন বৈশাখী৷ মুনমুন বৈশাখীর বাবার বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে  জামায়াতের রাজনীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। জানা গেছে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর অনুসারী মুনমুন বৈশাখী। সেও পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসছে বলে জানা গেছে। 

নাম না প্রকাশ শর্তে এক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, সামিহা সরকার ছাত্রলীগ সভাপতি শোভনের অনুসারী। সামিহা সরকারকে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের ক্ষোভের শেষ নেই৷ সে বিএনপি পরিবার থেকে এসে এবং বিবাহিত হওয়ার পরেও দেখা যাবে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ পেয়েছে। অথচ এমনও ছাত্রনেতা পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ঠাঁই পাবে না যাদের পরিবার সম্পূর্ণ আওয়ামী লীগ পন্থী এবং আওয়ামী লীগের জন্য সেই পরিবারের অনেক ত্যাগ রয়েছে। এভাবেই চাটুকারদের কারণে প্রকৃত ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হয় না। ছাত্রলীগ করে তো আমাদের অনেক কিছু চাওয়ার থাকে না। দিনশেষে পদ নামক যে সম্মানটুকু নিয়ে ঘরে ফিরতে চাই সেটাও তেলবাজ, হাইব্রিডদের দখলে চলে যায়।'

এদিকে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন নেতা হওয়ার পর থেকেই বলে আসছেন, পদপ্রত্যাশীদের পারিবারিক অবস্থা ও দলের প্রতি আনুগত্য ও অবদান বিবেচনায় নিয়ে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিতর্কিত কাউকে কমিটিতে রাখা হবে না।

 

Design & Developed by ProjanmoIT