আজ বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯ ইং | ১ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিয়ের প্রলোভনে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা

মাতৃভূমি নিউজ ডেস্কঃ
প্রকাশিতঃ ৫ অক্টোবর ২০১৯ সময়ঃ রাত ৩ঃ৫৩
বিয়ের প্রলোভনে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা

মাতৃভূমি নিউজ ডেস্কঃ 

ক্যান্টনমেন্ট থানার মাটিকাটায় বিয়ের প্রলোভনে এক কলেজ ছাত্রীকে দিনের পর দিন ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর নাম আয়েশা আক্তার (১৮)। সে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্রী। ওই ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নং-৭ এ মামলা করেছেন। যার নম্বর-৮৫/২০১৯।

জানা যায়, আয়েশা আক্তার নামের ওই ছাত্রীর সাথে ক্যান্টনমেন্ট থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন (৩২) ২০১৩ সালে প্রথম জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করে। পরবর্তীতে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে ইসমাইল অভিযোগকারী আয়েশা আক্তারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। আর এই প্রেমের সুযোগ নিয়েই ইসমাইল আয়েশা আক্তারের সাথে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্ক করে আসছে। একটা সময় ওই ছাত্রীর মা এই সম্পর্কের কথা জানতে পেরে, ইসমাইলকে তার মেয়ের সাথে বিয়ের কথা বলেন। কিন্তু ইসমাইল বিয়ে করতে অসম্মতি জানায় এবং মেয়েকে ভয়ভীতি দেখায়। পরে আয়েশার মা জোরপূর্বক মেয়েকে ২০১৭ সালের ২২ জুলাই বিয়ে দিয়ে দেন। আয়েশার বিয়ের পর ইসমাইলের লালসা আবার জেগে ওঠে। সে আয়েশার নিকট তার অতীত ভুলের কথা স্বীকার করে ক্ষমা চায় এবং ওই স্বামীর ঘর ছেড়ে চলে আসতে বলে। বিয়ের একমাস পর আয়েশা আক্তার ইসমাইলের সাথে সংসার করার জন্য সেই ছেলেকে ডিভোর্স দিয়ে মায়ের কাছে চলে আসে। আবার শুরু হয় ইসমাইলের লালসার মেটানোর অভিনয়। একটা সময় এসে আয়েশা ইসমাইলকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। ইসমাইল বিভিন্ন অজুহাতে সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। আয়েশা আক্তার তখন বুঝতে পারে যে ইসমাইল তাকে বিয়ে করবে না, শুধু শারীরিক সম্পর্কের জন্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখছে।

সর্বশেষ গত ২৫-০৭-২০১৯ তারিখ বিকালে ইসমাইল আয়েশা আক্তারের রুমে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে আসে।

এ বিষয়ে ইসমাইল হোসেন বার্তাজগৎ২৪ কে বলেন, আমি ওই মেয়ের সাথে কোন শারীরিক সম্পর্ক করি নাই। ওই মেয়ের অন্য যায়গায় বিয়ে হয়ে গিয়েছে।

আপনি তাকে বিয়ে করবেন এমন আশ্বাসেই আয়েশা তার স্বামীর ঘর ছেড়ে এসেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসমাইল বলেন, প্রশ্নই আসে না। ওই মেয়ের মায়ের চরিত্র খারাপ, চার-পাঁচটা বিয়ে। এমন মায়ের সন্তানের সাথে আমার সম্পর্কের কোন মানেই হয় না। 

আপনি তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেছেন তার প্রমাণ এবং আপনার কল রেকর্ডিং রয়েছে এমন কথার পরিপেক্ষিতে ইসমাইল বলেন, আপনারা সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে দেখেন, ওই মেয়ের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নাই।

অভিযোগকারী আয়েশা আক্তার বলেন, ২০১৩ সাল থেকে ইসমাইল আমার জীবন নিয়ে খেলছে। দেশে কি কোন বিচার নেই। দিনের পর দিন আমাকে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করেছে। আমি জন্মের পর আমার বাবার ভালোবাসা পাইনি। আমার মা অনেক পরিশ্রম করে আমাকে বড় করেছে। কিন্তু ওই ইসমাইল রাজনৈতিক ক্ষমতা দেখিয়ে আমার সাথে দিনের পর দিন শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছে। ও আমাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে, আমার মা আমাকে বিয়ে দিয়েছিলো। কিন্তু ওর কারণে আমি সেই সংসারটাও করতে পারিনি। আর এখন ও আমাকে বিয়ে না করে ওল্টো ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। 

সরেজমিনে মাটিকাটায় গিয়ে কথা হয় ষাটোর্ধ এক অবসরপ্রাপ্ত চাকুরীজীবীর সাথে। তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তাজগৎ২৪ কে বলেন, ইসমাইল হোসেনের বড় ভাই ইব্রাহীম হোসেন ক্যান্টনমেন্ট ১৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তার নামে ক্যান্টনমেন্ট থানাসহ বিভিন্ন থানায় ৯ টির অধিক মামলা রয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতায় চলে ওরা। বুঝতেই পারছেন যে, কোন ভালো মানুষের নামে কখনো এতো মামলা থাকে না। ইসমাইলের কথা আর কি বলবো। দীর্ঘদিন এই থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। এই ক্ষমতাবলে এলাকায় তার একটা প্রভাব তৈরি হয়েছিলো। 

ইসমাইলের বিষয়ে আয়েশা আক্তারের মা মেহেরুন নেসা বলেন, আমার মেয়ের সাথে ইসমাইল আগে একবার অপরাধ করেছে। কিন্তু আমি ভুলে গিয়ে মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু ওর কারণে আমার মেয়ের সেই সংসারও করা হয়নি। উল্টো এখন বিয়ের কথা বললে সে আমার মেয়ের চরিত্র খারাপ এমনকি আমার চরিত্র নিয়েও কথা বলছে। আমি এর উপযুক্ত বিচার দাবি করছি। 

উল্লেখ্য, বর্তমানে ইসমাইলের একটি পা ভেঙে যাওয়ায় সে তার গ্রামের বাড়ি শেরপুর, শ্রীবর্দীতে রয়েছে। জানা গেছে, ইসমাইলের বিয়ের জন্য তার পরিবার গোপনে মেয়ের সন্ধান করছে।

 

Design & Developed by ProjanmoIT