আজ শনিবার, ৬ জুন ২০২০ ইং | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কারা এই চাল চোর?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিতঃ ১৩ এপ্রিল ২০২০ সময়ঃ সকাল ৮ঃ০০
কারা এই চাল চোর?

অপ্রিয় হলেও সত্য যে, আজ প্রধানমন্ত্রী আর হাতেগোনা কয়েকজন এমপি মন্ত্রি এর গুটিকয়েক নেতা বাদে সরকারি দল তথা আওয়ামীলীগ এখন দূর্নীতিবাজ নেতা-পাতি নেতায় ভরপুর একটা বিতর্কিত দলে পরিনত হয়ে গেছে। 

 

প্রধানমন্ত্রীর একক ক্যারিশমায় আওয়ামীলীগ আজ টানা তিনবার ক্ষমতায়। প্রতিবারই নির্বাচনের পূর্বে নেত্রিকে ধরা হতো ট্রামকার্ড, তার একার উপর ভরসা করেই প্রতিবার দল ক্ষমতায়। সরকারের প্রতিটা ক্রাইসিসের ক্ষেত্রেও তার  হস্তক্ষেপ ছাড়া খুব একটা সমাধান আসে না। তাহলে অন্য নেতাদের কাজ কি???

 

দলের অন্যান্য নেতাদের কাজ হলো লোক দেখানো ফরমালিটি, আর গাজাখোরদের মতো বেফাস কথা বলে ভাড়ের মতো লোক হাসানো। যেমন... কেউ ধাক্কা মেরে বিল্ডিং ভেংগে ফেলে আবার কেউবা করোনাভাইরাসের চেয়ে ও শক্তিশালী সুপারম্যান হয়ে জনগনের ত্রানকর্তা সাজা।  

 

আসলে তারা জনগনের কল্যানে রাজনীতি করে না। তারা নিজের আখের গোছাতে বহুমুখী ব্যাবসার ধান্দায় ব্যাস্ত। আর পার্টির দায়িত্বশীল হয়ে রাজনীতির নামে ত্যাগী নেতা কর্মিদের বাদ দিয়ে দল ও অন্যান্য অংগ সংগঠন এবং স্থানীয় পর্যায়ে জেলা উপজেলার জনপ্রতিনিধি বা দলীয় সকল পদপদবি গুলোতে টাকা খেয়ে অথবা নিজের শালা সমন্ধি দুলাভাই গেতিগোস্টির লোক বসিয়ে সেই পকেট বাহিনীর সাহায্যে নিজেকে মহান নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে বিভোর তারা।  মিডিয়ার কল্যানে জানা যায়.. কেউ কেউ আবার বংগবন্ধুর সাথে নিজেকে তুলোনা করার চেষ্টাও চালায়।

 

আজকের এই মহামারীর সময়ে গরিবের হক মারা "চালচোর" কারা জানেন? বর্তমান প্রেক্ষাপটের এই চালচোর চেয়ারম্যান মেম্বার বা কমিশনার গুলো বিএনপি বা জামায়াতের কেউ নয় কিন্তু, এরা হলো সেই স্বার্থবাজ এমপি মন্ত্রিদেরই স্নেহধন্য শিস্যের দল। তাইতো তারা এসব অপকর্ম করেও নির্দ্বিধায় পার পেয়ে যায় বা যাচ্ছে। আচ্ছা তাদের কি মরনের ভয় নেই? নাকি করোনা চাল চোরদের আক্রান্ত করবেনা বলে জানিয়েছে?

 

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় গুলো যদি তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব গুলো সঠিক আর ইমানদারীর সাথে পালন করতো, তবে হালের এই ক্রান্তিলগ্নে আমরা সাধারণ জনগন একটু হলেও স্বস্তি পেতাম। চোরেরা চাল চুরি করার সাহস করতোনা। দরিদ্ররা কেউ না খেয়ে কস্ট করতোনা। ক্ষুধার জালায় রিকশাওয়ালা রাস্তায় রিকশা নিয়ে বের হতোনা। মৃত্যুর ঝুকি নিয়ে গার্মেন্স শ্রমিক কাজে বের হতে চাইতো না বরং সকলেই ঘরে থেকেই করোনাভাইরাস নির্মুলে অংশগ্রহণ করতো।

 

নেত্রীর একার পক্ষে কয়দিকে নজরদারি করা সম্ভব? ক্ষমতা চিরকাল থাকেনা.. দল কোনভাবে পল্টি খেলে বা নেত্রির অবর্তমানে সেই সকল ধান্দাবাজ নেতাদের কি হাল হয়...  সেটা দেখার অপেক্ষায়। যদি বেচে থাকি!!

এম.কে জামান

Design & Developed by ProjanmoIT