আজ শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এবার রেলওয়ের অনলাইন টিকিটিংয়ে অসঙ্গতি পেয়েছে দুদক!

মাতৃভূমি ডেস্কঃ
প্রকাশিতঃ ২৮ মে ২০১৯ সময়ঃ রাত ২ঃ৩৮
এবার রেলওয়ের অনলাইন টিকিটিংয়ে অসঙ্গতি পেয়েছে দুদক!

 

আরমান হাবিব, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

এবার ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমাতে প্রথম থেকেই সজাগ ছিলো কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে প্রতিবছর রেলওয়ের টিকিট নিয়ে যাত্রীরা যে ভোগান্তিতে পড়ে তার থেকে রেহাই পেতে রেলমন্ত্রী রেলের টিকিট কাটাকে সহজ করতে একটা এ্যাপ চালু করে। কিন্ত তাতেও যাত্রীদের ভোগান্তি কমেনি। রেলওয়ের অনলাইন টিকিটিংয়ে নানা অসঙ্গতি পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। এসব অসঙ্গতি নিয়ে রেলের ই-টিকিট নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিএনএস যে ব্যাখ্যা দিয়েছে তাতেও সন্তুষ্ট নয় সংস্থাটি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করলেও রেলওয়ে বলছে, অ্যাপের দুর্বলতার কারণে ঝামেলায় পড়েছেন যাত্রীরা। অ্যাপটি উন্নয়নে নতুন করে চুক্তি করা হচ্ছে বলেও জানায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

২২ মে ঈদের আগাম টিকিট বিক্রি শুরুর দিন থেকে, অ্যাপে প্রবেশ করতে না পারা সার্ভার ডাউন কিংবা হ্যাঙ এমন নানা অভিযোগ অ্যাপ ব্যবহারকারীদের মুখে। এমন প্রেক্ষাপটে অন লাইনে বিক্রির আড়ালে টিকিট জালিয়াতি হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে কমলাপুর স্টেশনের সার্ভার কক্ষে হানা দেয় দুদক।

প্রাপ্ত তথ্যগুলো আরও ভালোভাবে মিলিয়ে নিতে, ৫দিন পর ২৭ মে আবারও কমলাপুরে দুদক। অনলাইন টিকিট বিক্রিতে সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা সিএনএসের কক্ষে অভিযান চালায় দুদকের একটি আইটি এক্সপার্ট দল। বৈধ সময় পার হওয়ার পরও অ্যাপে টিকিট কেটে নেয়াসহ বেশ কিছু অসঙ্গতি তুলে ধরেন তারা।

এ বিষয়ে দুদকের প্রকৌশলী সোহাগ কুমার দাস বলেন, ৩১ তারিখ থেকে ৪ তারিখ পর্যন্ত টিকিট বিক্রি করা হবে। এই টিকিট বিক্রির সময় ১০টা পর্যন্ত। আমরা এখানে এসে দেখলাম টিকিট ১০টার পরও বিক্রি হচ্ছে। 

ইচ্ছাকৃতভাবে সার্ভার হ্যাঙ করে রাখা হয় কিনা? এমন প্রশ্নের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি সিএনএস এমন মন্তব্য করে দুদক বলছে, রেলের কারিগরি ঘাটতির কারণে সিএনএসকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

দুদকের সহকারী পরিচালক খায়রুল হক বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে তারা সার্ভার লক করে রেখেছে কিনা সার্ভার হ্যাঙ করছে কিনা তার উত্তর তাদের কাছে নেই।  

এরপর দুদকের দলটি যায় রেলপথ মন্ত্রণালয়ে। যেখানে তলব করা হয়, রেলের অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তা ও সিএনএসের শীর্ষ কর্তাদের। ঘণ্টাব্যাপী আলোচনার পর সংবাদমাধ্যমে কোনো কিছু না জানিয়ে চলে যায় দুদক দল।

পরে দুদকের সব অভিযোগ অস্বীকার করে সিএনএস ও রেলওয়ে। নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করে অ্যাপ উন্নয়নে নিজেদের পরিকল্পনার কথা জানায় কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ রেলওয়ে’র সহকারী পরিচালক (অপারেশন) মিয়াজাহান বলেন, জনগণের চাহিদার সাথে সেভাবে আমরা এখনো সক্ষম নই। এই সক্ষমতা অর্জনের জন্য রেলওয়ের পরবর্তী ব্যবস্থাগুলো রেলওয়েকে নিতে হবে। 

ঈদ টিকিটের প্রায় ৫০ হাজার পাঁচদিনে বিক্রির বরাদ্দ পায় অনলাইন, সোমবার (২৭ মে) দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অবিক্রিত টিকিটের সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার বলে জানায় সিএনএস।

কমলাপুরে সাধারণ যাত্রীরাও অভিযোগ করেন টিকিট না পাওয়ার। আরিফ নামের এক যাত্রী গণমাধ্যমকে জানান, আমি কয়েক ঘন্টা চেষ্টা করেও এ্যাপে টিকিট কাটতে পারি নাই। এমন অভিযোগ করেছে অনেকেই। 

 

 

Design & Developed by ProjanmoIT