আজ বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯ ইং | ১ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এবার ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে সেরা ১০ গেম চেঞ্জার!

এম এ রহমান
প্রকাশিতঃ ৭ মে ২০১৯ সময়ঃ ভোর ৬ঃ০০
এবার ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে সেরা ১০ গেম চেঞ্জার!

ইয়াছিন আরাফাতঃ

২০১৯ সালের একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসরটি ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে চলতি বছরের ৩০ মে অনুষ্ঠিত হয়ে চলবে ১৫ ই জুলাই পর্যন্ত।গ্রুপ পর্বের খেলাগুলো রাউন্ড রবিং পদ্ধতিতে হয়ে যাওয়া এ বিশ্বকাপে মোট ১০ টি দল অংশগ্রহণ করবে।বর্তমানে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সবগুলো দলই তাদের শেষ সময়ের প্রস্তুতির জন্য ব্যস্ত সময় পার করছে।

আমরা আমাদের আজকের প্রতিবেদনে তুলে এনেছি গোটা বিশ্বের এমন ১০ জন ক্রিকেটারের বিস্তারিত। যারা তাদের নির্দিষ্ট দিনে একাই ক্ষমতা রাখেন ম্যাচ ঘুরিয়ে দেবার। এক কথায় যাকে বলে গেম চেঞ্জার।

ফখর জামান (পাকিস্তান):

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান দলে উঠতি ক্রিকেটারদের মাঝে সেরাদের একজন ফখর জামান। ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দৃষ্টিনন্দন কিছু ইনিংস দিয়ে পাকিস্তান দলে নিয়মিত খেলোয়াড় হিসেবে জায়গা করে নেন তিনি। অল্প কয়েকদিনে সবচেয়ে কম ১৮ ম্যাচ খেলেই ক্রিকেট ইতিহাসের দ্রুততম হাজার রানের মাইল ফলক স্পর্শ করে ফেলেন তিনি। ওডিআই ক্রিকেটে ছোট ক্যারিয়ারে বেশ কিছু সেঞ্চুরির পাশাপাশি একটা ডাবল সেঞ্চুরিও রয়েছে তার। তাই পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে যে কোন প্রতিপক্ষকে ভাবতে হবে এই মারকাটারি ওপেনারকে নিয়ে।

হার্দিক পান্ডিয়া (ভারত):

সম্প্রতি সময়ে ভারতের এই সম্ভাবনাময় ও প্রতিশ্রুতিশীল মিডিয়াম ফাস্ট বোলিং অলরাউন্ডারকে নিয়ে আছে নানান বির্তক। তবে যত কিছু হোক তার বিশ্বকাপ খেলা মোটামুটি নিশ্চিত বলা যায়। কেননা বর্তমানে ভারতীয় দলে হার্দিক একমাত্র ক্রিকেটার যিনি একই সাথে লোয়ারঅর্ডারে এগ্রেসিভ ব্যাটিং ও দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অপ্রতিরোধ্য বোলিংও করতে পারেন।২৫ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডাকে তার ছোট ক্যারিয়ারে বেশ কয়েকটি ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিং করতে দেখা গেছে। দলের জয় কিংবা স্কোরবোর্ডে বিশাল সংগ্রহের জন্য তার ওপর আস্থা রাখতে পারে টিম ইন্ডিয়া। 

শিমরন হেটমায়ার ( ওয়েস্ট ইন্ডিজ):

শিমরন হেটমায়ার যার মাঝে নতুন করে ব্রায়ান লারার স্বপ্নে বিভোর ওয়েস্ট ইন্ডিজরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের তরুণ এই প্রতিভাবান খেলোয়াড় ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক ওডিআই ক্রিকেটে অভিষিক্ত হন। বিশ্বের যেকোন দলের বোলারের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ইতিমধ্যে নিজের মাঝে ফুটিয়ে তুলেছেন ব্রায়ান লারার প্রতিভা। আসন্ন এই বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ব্যাটিং লাইন আপের অন্যতম ভরসা স্বরূপ এই  বিধ্বংসী মাথা ব্যাথার কারণ হতে পারে যে কোন প্রতিপক্ষের। 

গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ( অস্ট্রেলিয়া):

অজি তারকা ব্যাটিং অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল নিজের দিনে কতটা বিধ্বংসী সেটা প্রতিনিয়ত প্রমাণ করে যাচ্ছেন। যেকোন অবস্থায় যেকোন দলের বিপক্ষে বিস্ফোরক ইনিংস খেলতে পারেন তিনি। ২০১৫ বিশ্বকাপে মারকাটারি এই ব্যাটসম্যান শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫১ বলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি করেন। অজি মিডিয়া পাড়ায় দ্যা বিগ শো নামে পরিচিত এই ক্রিকেটারের ওয়ানডে স্ট্রাইক রেটও ১২০ এর উপরে। সেই সাথে বল হাতে তো স্বভাবজাত অফ স্পিন থাকছেই। সব মিলিয়ে অসাধারণ এক প্যাকেজ ক্রিকেটার ম্যাক্সি থেকে সেরাটা পেলে অস্ট্রেলিয়া যে কোন প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিতে সক্ষম হবেন।

বেন স্টোকস ( ইংল্যান্ড):

বর্তমান বিশ্বে পেস বোলিং অলরাউন্ডার এর নাম বলতে গেলে সবার আগে উঠে আসবে ইংলিশ ক্রিকেটের ব্যাডবয় খ্যাতো নিউজিল্যান্ডের বংশোদ্ভূত বেন স্টোকসের নামই। মিডিয়াম ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি মিডল অর্ডারে অসাধারণ ব্যাটিং করতে পটু এই ইংলিশ ক্রিকেটার। দলের বিপদে অসাধারণ ব্যাটিং করে দলকে জয় উপহার দেওয়া কিংবা বিশাল সংগ্রহ এনে দেওয়ার অনেক রেকর্ড রয়েছে তার। বল হাতে ১০ ওভারের বোলিং তো থাকছেই। সব মিলিয়ে ব্যাট এবং বল হাতে যেকোন দলের চিন্তার মূল কারণ হতে পারেন বেন স্টোকস।

মোস্তাফিজুর রহমান ( বাংলাদেশ):

বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ক্রিকেট প্রতিভা খ্যাত মোস্তাফিজুর রহমানের সামর্থ নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকার কথা নয়। তবে তার মাঝে অভাব আছে ধারাবাহিকতার। ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ওডিআই ক্রিকেটে অভিষেক করে ক্যারিয়ারের প্রথম থেকেই একের পর এক চমক দেখিয়ে বাংলাদেশ দলে অন্যতম নির্ভরযোগ্য বোলার হিসেবে পরিচিত লাভ করেন বামহাতি এই ফাস্ট বোলার। আন্তর্জাতিক ওডিআই ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ারের প্রথম দুই ম্যাচে ১১ উইকেট শিকার করা এই বোলারকে আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের পেস আক্রমণের মূল হাতিয়ার হিসেবে তাকে দেখা হচ্ছে। 

রশিদ খানে ( আফগানিস্তান):

বিশ্বের সর্ব কনিষ্ঠ অধিনায়ক এবং সর্ব কনিষ্ঠ দ্রুততম বোলার হিসেবে ওয়ানডে ৪৪ ম্যাচে ১০০ উইকেট শিকার রেকর্ড এই রহস্যময় স্পিনারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০১৫ সালে। অভিষেকের পর থেকেই বিশ্ব ক্রিকেটে রেকর্ড ভাঙা গড়ার খেলায় মেতেছেন তিনি। নিজের রহস্যময় বিষাক্ত লেগ স্পিনের ছোবলে ধ্বংস করতে পারেন বিশ্বের যেকোন দেশের ব্যাটিং লাইন আপ। সেই সাথে লোয়ারঅর্ডারে মারকাটারি ব্যাটিং যেকোন দলের জন্যই বিপজ্জনক।

কাগিসো রাবাদা ( দক্ষিণ আফ্রিকা):

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর এ ক্রিকেটারের অভিষেকটা হয়েছিল হ্যাট্রিক করার মাধ্যমে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে অভিষেক ম্যাচে ৮ ওভারে ১৬ রান দিয়ে হ্যাট্রিকসহ ৬ উইকেট শিকার করেন তিনি। ৬০+ ম্যাচ খেলে প্রায় ১০০ উইকেট শিকার করেছেন। তার গতি এবং সুয়িং এর কাছে যেকোন প্রকার ব্যাটসম্যানরা কোন ঠাসা হয়ে পড়েন। বিশ্বকাপ মঞ্চে যেকোন দলের মাথা ব্যাথার বড় কারণই হতে পারে এই তরুণ গতিশীল বোলার। 

ট্রেন্ট বোল্ট (নিউজিল্যান্ড):

বর্তমান বিশ্বের বাঁহাতি বোলারদের মধ্যে অন্যতম সেরা একজন নিউজিল্যান্ডের গতি দানব ট্রেন্ট। তিনি প্রতিপক্ষের জন্য কতটা ভয়ংকর রূপ ধারণ করতে পারেন সেটা বিগত বিশ্বকাপের দিকে তাকালে বোঝা যায়। ২০১৫ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের তালিকায় মিচেল স্ট্রার্কের সমান ২২ উইকেট শিকার করে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন ট্রেন্ট বোল্ট। সেবার নিউজিল্যান্ড ফাইনাল পর্যন্ত খেলার পেছনে বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বাঁবাঁমহাতি এই ফাস্ট বোলারকে সমীহ করতে হবে সব দলকে। তাকে মোকাবেলা করতে ছক আঁকতে হবে আলাদা ভাবে। 

থিসারা পেরেরা (শ্রীলঙ্কা):

লঙ্কান হার্ড হিটার এ ক্রিকেটারকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার কিছু নেই। ক্যারিয়ারে যত সময় পার করেছেন ততই হচ্ছেন পরিণত। অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচিত এই খেলোয়াড় ডান হাতে মিডিয়াম ফাস্ট বোলিং এর পাশাপাশি বাম হাতে মিডল অর্ডারে অসাধারণ ব্যাটিং করতে পারেন। চলতি বছরের প্রথমে নিউজিল্যান্ড সিরিজে ৭৪ বলে ১৪০ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। সাম্প্রতিক তার ব্যাটিং ও বোলিং পারফরম্যান্স আসন্ন বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা দলের জন্য অনেকটা সস্তির বিষয়। তার অলরাউন্ডার পারফরম্যান্স লঙ্কানদের যেকোন দলের বিপক্ষে দিতে পারে জয়

Design & Developed by ProjanmoIT