আজ বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯ ইং | ১ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আন্দ্রেয়া দেল সার্তো,ফ্রয়েড এবং আমাদের আটপৌরে জীবনের মিল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিতঃ ১ জানুয়ারী ২০১৯ সময়ঃ রাত ১ঃ০০
আন্দ্রেয়া দেল সার্তো,ফ্রয়েড এবং আমাদের আটপৌরে জীবনের মিল

মরু জীবনের সুশীতল স্রোতস্বিনী হচ্ছে পানি যা মানব জীবনের সর্বোচ্চ প্রয়োজনীয় বস্তু। যেখানে প্রেম নেই জীবন সেখানে নিষ্প্রাণ। সেখানে নেই সজীবতা, আছে মরুময়তা এবং জীবন সেখানে ঊষর, ধুসর। প্রেমের অনুপস্থিতি ডেকে আনে চরম ব্যর্থতা। প্রেমাশ্রয়ী কবিতার কামেল রবার্ট ব্রাউনিং এর  “Andrea Del Sarto”  কবিতার নায়ক আন্দ্রেয়া দেল সার্তো এর জীবন বেদনায় পর্যবসিত প্রেমের পরম পরশহীনতার কারণে।

ব্রাউনিং তার  “Andrea Del Sarto”  কবিতাটি রচনা করেছেন ইতালির বিখ্যাত চিত্রকর আন্দ্রেয়া দেল সার্তোর জীবন কাহিনী অবলম্বন করে। জীবদ্দশায় তিনি রাফায়েল, মাইকেল এঞ্জেলো এর সাথেও কাজ করেছেন। ব্রাউনিং কবিতায় শিল্পী সার্তোর মর্মস্পর্শী এক দিক উন্মোচনের প্রয়াস নিয়েছেন। সার্তো লুক্রেসিয়া  নামক এক রূপসী রমনীকে বিয়ে করে তার প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু সার্তো কখনো তার স্ত্রীর মনের একচ্ছত্র অধিপতি হতে পারেন নি।। লুক্রেসিয়া ভালোবাসত তার এক মামাতো ভাইকে। কিন্ত সার্তোর সম্পদ কুক্ষীগত করবার লিপ্সা লুক্রেসিয়ার ছিল।লুক্রেসিয়া সেই মামাতো ভাইয়ের ছবি একে দেবার  জন্যেও নির্লজ্জভাবে আবদার করেছে সার্তোর কাছে। প্রেমের কাছে ধরাশায়ী সার্তো তাতেও না করেননি। ফরাসী রাজার সাথে প্রপঞ্চ করেছে সার্তো, প্রতারণার মাধ্যমে বাগিয়ে আনা বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে লুক্রেসিয়ার জন্য মনোরম এক প্রাসাদ নির্মাণে। এত কিছুর পরেও চিড়ে ভিজেনি। প্রাণাধিক প্রিয় স্ত্রী তাও ছুটে গেছে পরপুরুষের কাছেই।

কিন্ত সার্তো তাতে দমে যাননি। এ মহৎ শিল্পীর ভেতরে যেন শিল্পী সত্তার চুড়ান্ত বিকাশ ঘটেছে। এতসব বেদনার চেয়েও তার কাছে স্ত্রীর হাসিই মূল্যবান। স্ত্রীর সুখের জন্য স্ত্রীকে কোন কিছুতে বাধা দেননি। অবলীলায় ঘরের বাইরে অপেক্ষা করা স্বীয় স্ত্রীর প্রেমিকের কাছে যেতে দিয়েছেন স্ত্রীকে।

ব্রাউনিং এর এই কবিতা রূপকল্পনা নয়। ১৮৫৫ সালে প্রকাশিত এই  কবিতা জীবননির্ভর। এই কবিতা বা সার্তোর জীবন আমাদের কি বার্তা দেয়? বেদনার সাথে হাসিমুখে লড়াই এ অবতীর্ণ হবার? নাকি বেদনাই একজন শিল্পীর শিল্প সত্তা তৈরির পূর্বশর্ত।  যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে বলতে হয় কবি ব্রাউনিং, চিত্রশিল্পী সার্তো এরা সবাই মনোবিজ্ঞানী মহাত্মা ফ্রয়েড এর পূর্বসূরি। ফ্রয়েড প্রায় একশো বছর পরে এসে নিজেকে ঐচ্ছিকভাবে কষ্ট দেবার অনুভুতিকে তত্ত্বের রুলবুকে যুক্ত করলেন  'স্যাডিসম' নামে।

তত্ত্ব কখনোই মানবজীবন বিচ্ছিন্ন নয়। তাত্ত্বিকগণের কাজই জীবনকে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণপূর্বক প্রাপ্ত ফলাফলকে কাগুজে ভাষায় লিপিবদ্ধ করা।  সার্তো যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন ব্যক্তিগত জীবনে আমরা কখনো না কখনো অনুরূপ পরিস্থিতির উনুনে জ্বলেছি।  প্রেমিকার মনের অধিপতি হতে না পারার কষ্ট আমাদের সবাইকেই কখনো না কখনো ছুঁয়ে গিয়েছে। কেউ তা হাসিমুখে হজম করেছে আবার কেউ তা করেনি। কেউ বেদনাকে সৃষ্টি সত্তায় সঞ্চালিত করেছে আবার কেউ পারেনি। যারা পেরেছে ইতিহাস তাদেরই প্রশস্তিগাথা গেয়েছে। এমনই প্রশস্তিগাথার গল্প কবিতার মাধ্যমে তুলে এনেছিলেন ব্রাউনিং, মহান চিত্রকর আন্দ্রেয়া দেল সার্তোর গল্প। আমি সেই খবরই পাঠকদের দিলাম। আপনারা সাহিত্যের উত্তাল সমুদ্রে নেমে পড়ুন এরকম আরো অসংখ্য গল্পের সন্ধান আপনারা পাবেন, আমি আপনাদের বাজি ধরে বলতে পারি। যারা নামবেন সমুদ্রে তাদের জন্য শুভকামনা রেখে আজকের মত বিদায় নিলাম।

Design & Developed by ProjanmoIT